বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর সময়সুচি ২০২৩ | সামরিক জাদুঘর টিকেট মূল্য ২০২৩

5/5 - (3 votes)

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর যেটির পূর্ব নাম বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর (Bangladesh Military Museum)। তৎকালীন সময়ে ১৯৮৭ সালে মিরপুর সেনানিবাসের কাছে সর্বপ্রথম এই জাদুঘর স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে এটিকে রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এই জাদুঘরটির সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হলেও নানা বাধা অতিক্রম করে ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৭৬ কোটি টাকা খরচে বহুল প্রত্যাশিত এই জাদুঘরটি নির্মিত হয়।

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর

সামরিক জাদুঘর

সামরিক জাদুঘর (Samorik Jadughor) যার পূর্ণ নাম বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর ( Bangabandhu Military Museum)। জাদুঘরটির নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামে। প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি জাদুঘর।

অনলাইন টিকেট কিভাবে কাটবেন, কোথায় অবস্থিত, কিভাবে যাবেন, কবে বন্ধ থাকে, কি কি রয়েছে এখানে, টিকেট মূল্য সহ বিস্তারিত জানানো হবে। এর পাশেই রয়েছে ঢাকার সবচেয়ে বড় পার্ক শ্যামলী শিশু মেলা

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে নানন্দিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যবহুল জাদুঘর। দেশের সামরিক বাহিনীগুলোর ইতিহাস, সাফল্য সংক্রান্ত নিদর্শন ও বিভিন্ন অস্ত্র-শস্ত্রের সংগ্রহশালা নিয়ে সমৃদ্ধ এই জাদুঘরটি।

আপনি কি শিক্ষা, ট্রেনের খবর, ট্রাভেল গাইড, মার্কেট গাইড সহ সকল জেলার আপডেট পেতে চান ? আপনাকে উঁকি মারতেই হবে আমাদের ফেসবুক পেজ এ!!

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর” বাংলাদেশের ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই জাদুঘরে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, ক্যারিয়ার, রাজনীতি, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী এবং তার দীর্ঘ জিবনের নানা দিক অবলম্বনে বঙ্গবন্ধু গ্যালারী তৈরি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, শিক্ষা, রাজনীতি, স্বাধীনতা আন্দোলন, বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের গঠন ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। জাদুঘরে তার ব্যক্তিগত অবলম্বনের মাধ্যমে আমরা তার জীবনের প্রতিটি দিক জানতে পারি এবং তার মূল্যবান অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি।

সামরিক জাদুঘর এ কি কি রয়েছে

এখানে মোট ছয়টি গ্যালারী রয়েছে। গ্যালারী সমূহের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় গ্যালারী হচ্ছেঃ

  • Army Gallary
  • Navy Gallary
  • Art Gallary
  • Air Force Gallary
  • UN Gallary and
  • CHT Gallary

এছারাও এখানে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনী রয়েছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে পানির ফোয়ারা এবং আর্ট গ্যালারী।

এখানে রয়েছে
মাল্টিপারপাস এক্সিবিশন হল
সেমিনার হল
আলোকোজ্জ্বল ঝর্না/পানির ফোয়ারা
বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য
ক্যাফেটেরিয়া
3D,4D,5D মুভি হল
মুক্তমঞ্চ, আর্কাইভ
লাইব্রেরি ইত্যাদি
এক নজরে প্রদর্শনী সমূহ

আর্মি গ্যালারী

এটি সামরিক বাহিনী জাদুঘর এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি গ্যালারী। এখানে সর্বমোট আটটি (০৮) বিভাগ রয়েছে এবং চারটি (০৪) উপ-শাখা রয়েছে। এই গ্যালারিতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পারা যাবে। এটি জাদুঘর এর ১ম তালায় অবস্থিত।

এখানের যে আটটি বিভাগ রয়েছে সেগুলো হচ্ছেঃ

  1. অস্ত্র গ্যালারী
  2. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধ
  3. পথের ধারে পদচিহ্ন
  4. বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান
  5. শেখ হাসিনা কর্নার
  6. ইন্টারেক্টিভ জোন
  7. নারি ক্ষমতায়ন এবং
  8. কিডস কর্নার ইত্যাদি
আর্মি গ্যালারী
আর্মি গ্যালারী

নৌবাহিনী গ্যালারী

নৌবাহিনী গালারিটি সবচেয়ে বড় গ্যালারী। দুইতলা বিশিষ্ট এই গ্যালারীটির ১ম তালায় প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস রয়েছে। যেখানে নৌ শক্তির বিবর্তন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভুমিকা, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এর জন্য হলোগ্রাফিক শো সহ অনেক প্রদর্শনী রয়েছে। এই গালারির অবস্থানঃ বেসমেন্ট ১ এবং ২

  • BNN ত্রিমাত্রিক জাহাজের বিভিন্ন মডেল
  • জাহাজে বসে 3D তে জাহাজ চলাচল দেখার সুবিধা
  • ব্রিজ সিমুলেটর

একইভাবে ২য় তলায় রয়েছে সাবমেরিনে হাটার সুবিধা। সেই সাথে ভার্চুয়াল একুরিয়াম সহ অথই সমুদ্রের জানা অজানা অনেক প্রদর্শনী।

নৌবাহিনী গ্যালারী

বিমান বাহিনী গ্যালারী

এই গ্যালারিটির অবস্থান ২য় তলায়। এখানে বেশ কিছু সিমুলেটর, বিভিন্ন বিমানের ইঞ্জিন সহ আধুনিক সব সরঞ্জাম রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হচ্ছেঃ

  • ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লে
  • বিমানের বিভিন্ন ইঞ্জিন
  • মুক্তিযুদ্ধে ব্যাবহার করা হয়েছে এমন কিছু বিমানের তথ্য
  • বিভিন্ন বিমানের মডেল
  • ছোট সিনেমা হল
  • হলগ্রাফি থিয়েটার
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চেয়ার এয়ার ফোর্স
air force Gallary
বিমান বাহিনী গ্যালারী

ভিক্টোরিয়া গ্যালারী

ভিক্টোরিয়া গ্যালারিটি জাদুঘর এর নিচ তালায় অবস্থিত। এটি ৬০ ফুট উচু কাচের ফলকের নিচে স্থাপন করা হয়েছে।এখানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

  • বিভিন্ন ভাস্কর্য
  • বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন
  • নথি
  • বিভিন্ন ডিজিটাল মডেল এবং
  • নানা ধরনের গ্রাফিক্যাল মডেল।

সামরিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত

জাদুঘর টি রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার এর একদম সাথেই অবস্থিত। আরও সহজ ভাবে বলতে গেলে জিয়া উদ্যান মোড় থেকে ১০০ মিটার পূর্ব দিকে এর অবস্থান। এর পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং নভোথিয়েটার, পশ্চিমে সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান, উত্তরে আগারগাও এবং দক্ষিনে ফার্মগেট ও খামারবাড়ি অবস্থিত।

কিভাবে যাবেন

বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব সহজেই জাদুঘরটিতে ভ্রমণ করতে আসা যাবে। ঢাকার কোন প্রান্ত থেকে কিভাবে আসবেন তার একটি নমুনা তালিকা দেওয়া হল।

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর অনলাইন টিকেট

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর অনলাইনে টিকিট ক্রয় করার জন্য প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://bangabandhumilitarymuseum.com এ প্রবেশ করতে হবে। তারপর buy Ticket অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে অনলাইনে টিকেট কাটা যাবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে অ্যাকাউন্ট করে নিতে হবে এবং টিকেট মূল্য ১০০ টাকা। যা বিকাশ, নগদ বা অন্য সকল ব্যাংক ইউজ করে পে করা যাবে।

military museum online ticket
online ticket buy

সামরিক জাদুঘর টিকেট মূল্য ২০২৩

সামরিক জাদুঘর এ আগে প্রবেশ মূল্য ছিল ৫০ টাকা, সার্ক ভুক্ত দেশ এর দর্শনার্থীদের জন্য ১০০টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ছিল ২০০ টাকা। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রায় সকল জাদুঘর বা মিউজিয়াম এর প্রবেশ মূল্য সহ খরচ বাড়িয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় জাদুঘরটির টিকেট মূল্য সকল বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। সেই সাথে সার্ক ভুক্ত দেশ এ দর্শনার্থীদের জন্য ৩০০ টাকা এবং বিদেশি সকল দর্শনার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

আসেপাশের দর্শনীয় স্থান সমুহঃ

সামরিক জাদুঘর বন্ধের দিন

  • ২০২৩ সাল সামরিক জাদুঘর( Military Museum) সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এবং বুধবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। এছাড়া প্রতিদিন দুই( ০২) শিফট এ প্রদর্শনী কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। তবে প্রতি শুক্রবার প্রদর্শনী শেষে ৩০ মিনিটের একটি প্রামাণ্য চিত্র ফ্রি তে উপভোগ করতে পারবেন যেটি ৬.৩০ থেকে শুরু হয়।

এছাড়া রমজানে প্রতি শুক্রবার এবং অন্যান্য ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে একটি সময়সূচী প্রনয়ন করা হল।

সামরিক জাদুঘর সময়সূচী | Samorik jadughor schedule

গ্রীষ্মকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে শুক্রবার ও বুধবার বাদে। এবং বিকাল শিফট এ ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মূল প্রদর্শনী গেইট খোলা থাকে। তবে ৬.৩০ থেকে স্পেশাল প্রদর্শনী শুরু হয় পানির ফোয়ারার কাছে।

শীতকালীন সময়ে এই জাদুঘরটি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রতি শুক্রবার বিকাল ৬.১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একটি সুন্দর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

বারজাদুঘর সময়সূচী
শনিবারসকাল ১০-১ টা, বিকাল ৩-৬টা
রবিবারসকাল ১০-১ টা, বিকাল ৩-৬টা
সোমবারসকাল ১০-১ টা, বিকাল ৩-৬টা
মঙ্গলবারসকাল ১০-১ টা, বিকাল ৩-৬টা
বুধবারসাপ্তাহিক বন্ধের দিন
বৃহস্পতিবারসকাল ১০-১ টা, বিকাল ৩-৬টা
শুক্রবারবিকাল ৩-৬টা, ৬.৩০ এ স্পেশাল প্রদর্শনী
অন্যান্য ছুটির দিনবন্ধ থাকে
সামরিক জাদুঘর সময়সূচী ২০২৩

তবে পবিত্র রমজান মাসে এই সময়সুচির পরিবর্তন ঘটে থাকে। এই সময়ে জাদুঘরটি শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

টপিকবিস্তারিত
নামBangabandhu Military Museum
কোথায় অবস্থিতসামরিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত
টিকেট মূল্যMilitary Museum Ticket Price
সময়সূচীMilitary Museum Schedule
অনলাইন টিকেটসামরিক জাদুঘর অনলাইন টিকেট
বন্ধের দিনসামরিক জাদুঘর বন্ধের দিন
বিস্তারিত জেনে নিন এখান থেকে

সামরিক জাদুঘর কখন খোলা থাকে ?

ঢাকায় বিজয় স্বরণি তে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর সপ্তাহে বুধবার এবং রমজান মাসে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল শিফট এ ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং বিকেল শিফট এ ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে টিকিট মূল্য মাত্র ১০০ টাকা।

সামরিক জাদুঘর টিকেট কাটার নিয়ম ?

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর এ টিকেট কাটার জন্য প্রথমে https://bangabandhumilitarymuseum.com লিঙ্ক এ প্রবেশ করতে হবে। তারপর buy Ticket অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে অনলাইনে টিকেট কাটা যাবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে অ্যাকাউন্ট করে নিতে হবে এবং টিকেট মূল্য ১০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর প্রবেশ মূল্য কত ?

সামরিক জাদুঘর এ প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা, সার্ক ভুক্ত দেশ এর দর্শনার্থীদের জন্য ৩০০টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা।

Similar Posts